খরগোশ পালনের সম্পূর্ণ গাইড
খরগোশ ইঁদুর নয় — খাবার, ঘর ও যত্ন সম্পূর্ণ আলাদা। শুরু করার আগে যা জানা দরকার।

খরগোশ বাংলাদেশে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, কিন্তু ভুল তথ্যের কারণে অনেক খরগোশ প্রথম ছয় মাসেই মারা যায়। সবচেয়ে বড় ভুল দুটি — ভুল খাবার আর ভুল ঘর।
খাবার — সবচেয়ে জরুরি অংশ
খরগোশের খাদ্যতালিকার ৮০% হওয়া উচিত হে (শুকনো ঘাস)। এটি শুধু খাবার নয় — খরগোশের দাঁত সারাজীবন বাড়ে, আর হে চিবিয়েই দাঁত ক্ষয় হয়। হে না দিলে দাঁত বেড়ে গিয়ে খেতে পারে না।
| খাবার | অনুপাত | নোট |
|---|---|---|
| হে (টিমোথি) | ৮০% | সবসময় অবাধে দিতে হবে |
| তাজা সবজি | ১৫% | ধনেপাতা, পুদিনা, গাজরের পাতা |
| পেলেট | ৫% | অল্প — বেশি দিলে মোটা হয়ে যায় |
| ফল / ট্রিট | সামান্য | সপ্তাহে ১-২ বার, পুরস্কার হিসেবে |
ঘর
- হাচ যথেষ্ট বড় হতে হবে — খরগোশ পুরোপুরি লম্বা হয়ে শুতে পারতে হবে
- তারের মেঝে নয় — পায়ে ঘা হয়। কাঠ বা সলিড ফ্লোরে নরম বিছানা দিন
- সরাসরি রোদ থেকে দূরে — খরগোশ গরম সহ্য করতে পারে না, ২৮ ডিগ্রির উপরে ঝুঁকি বাড়ে
- প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা খাঁচার বাইরে হাঁটাচলার সুযোগ
বিপদের লক্ষণ — সাথে সাথে ভেটের কাছে
- ১২ ঘণ্টা কিছু না খাওয়া — খরগোশের ক্ষেত্রে এটি জরুরি অবস্থা
- পায়খানা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা খুব ছোট হয়ে যাওয়া
- নাক দিয়ে পানি পড়া বা শ্বাসে শব্দ
- মাথা একদিকে কাত হয়ে থাকা
এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। একজন রেজিস্টার্ড পশুচিকিৎসক এটি পর্যালোচনা করেছেন, তবু এটি সরাসরি পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার প্রাণীর নির্দিষ্ট সমস্যায় অবশ্যই একজন পশুচিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।









