বিড়াল পালতে মাসে কত খরচ হয়?
খাবার, লিটার, ভ্যাকসিন ও অন্যান্য — একটি বিড়ালের পেছনে বাস্তবে মাসে কত টাকা লাগে, ভেঙে দেখানো হলো।

বিড়াল পালার সবচেয়ে বড় ভুল হলো শুধু কেনার দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিড়ালের আসল খরচ কেনার দিনে নয়, প্রতি মাসে। অনেকে ১২ হাজার টাকায় বিড়ালছানা কিনে তিন মাস পর বুঝতে পারেন যে মাসিক খরচ সামলানো যাচ্ছে না — আর তখনই প্রাণীটি কষ্ট পায়।
নিচের হিসাবটি ঢাকায় একটি পূর্ণবয়স্ক বিড়ালের জন্য, ২০২৬ সালের বাজারদর ধরে। শহরভেদে ১০-২০% কমবেশি হতে পারে।
মাসিক নিয়মিত খরচ
| খাত | পরিমাণ | আনুমানিক খরচ |
|---|---|---|
| ড্রাই ফুড | ২ কেজি | ৯০০ – ১,৪০০ টাকা |
| ওয়েট ফুড / ট্রিট | সপ্তাহে ২-৩ বার | ৩০০ – ৬০০ টাকা |
| ক্যাট লিটার | ১০ লিটার | ৭৫০ – ৯০০ টাকা |
| গ্রুমিং সামগ্রী | মাসিক গড় | ১৫০ – ৩০০ টাকা |
| মোট | ২,১০০ – ৩,২০০ টাকা |
বাৎসরিক খরচ, মাসে ভাগ করলে
- ভ্যাকসিন — বছরে ১টি বুস্টার, ১,২০০ থেকে ২,০০০ টাকা
- ডি-ওয়ার্মিং — বছরে ২-৪ বার, প্রতিবার ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা
- নিউটার / স্পে — একবারই, ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা
- অপ্রত্যাশিত চিকিৎসা — বছরে অন্তত ৫,০০০ টাকা আলাদা রাখা উচিত
সব মিলিয়ে ঢাকায় একটি বিড়ালের পেছনে মাসে গড়ে ২,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা ধরে রাখা বাস্তবসম্মত। লম্বা লোমের জাত — যেমন পার্সিয়ান — হলে গ্রুমিং ও লোম সংক্রান্ত খরচ আরও কিছুটা বাড়বে।
খরচ কমানোর বাস্তব উপায়
- বড় প্যাকে খাবার কিনুন — ১৫ কেজির বস্তায় প্রতি কেজির দাম প্রায় ৩০% কম পড়ে, তবে মেয়াদ দেখে নিন
- লিটার হিসেবে বেন্টোনাইট ব্যবহার করুন, ক্লাম্পিং হওয়ায় কম লাগে
- নিউটার/স্পে করালে দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার খরচ কমে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বাচ্চা হয় না
- সস্তা খাবার দিয়ে খরচ বাঁচাবেন না — পরে চিকিৎসায় তার কয়েকগুণ বেশি যায়
এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। আপনার প্রাণীর নির্দিষ্ট সমস্যায় অবশ্যই একজন পশুচিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।









